সোনারগাঁয়ে মিম আবাসিক হোটেলে চলছে অনৈতিক কার্যকলাপ ও পতিতাবৃত্তি যুব সমাজ ধ্বংসের পথে

আজকের দেশবার্তা ডট তম;-

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মিম আবাসিক বোর্ডিং নামে একটি আবাসিক হোটেল গড়ে তুলে সেখানে অনৈতিক কার্যকালাপ চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি প্রশাসনকে ফাকি দিয়ে সেখানে অবাধে চলছে দেহ ব্যবসা। দীর্ঘদিন ধরে এমন অবৈধ ব্যবসা করার অভিযোগ রয়েছে এই হোটেল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে।সরেজমিনে ঘুরে জানা গেছে, উপজেলা সোনারগাঁয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পিরোজপুর ইউনিয়নের বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মোল্লা প্লাজায় অবস্থিত মিম আবাসিক বোর্ডিংয়ে দীর্ঘদিন ধরে অসামাজিক কার্যকলাপ হচ্ছে এমন অভিযোগ স্থানীয়দের। তবে এই বোর্ডিংটি বন্ধ হওয়ার পূর্বে কয়েক দফা অভিযান চালায় সোনারগাঁ থানা পুলিশ। হোটেলটিতে দেহ ব্যবসা চলে এমন অভিযোগের ভিত্তিতে সোনারগাঁ থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে নারী ও খদ্দেরসহ ৪ জনকে আটক করে। এ ঘটনায় বেশ কিছুদিন বন্ধ থাকার পর পুনরায় সেখানে শুরু হয় অনৈতিক কার্যকলাপ। সোনারগাঁয়ের আইন-শৃক্সখলা বাহিনীও কোন ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছেনা বলে অভিযোগ করেছে এলাকাবাসী।সম্প্রতি, মোগড়াপারা চৌরাস্তা এলাকায় স্থানীয় মুসুল্লিরা “কুইন্স গার্ডেন গেস্ট হাউজ” নামে আরও একটি মিনি আবাসিক হোটেলে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে অতর্কিতভাবে হামলা চালায়। এ সময় হোটেল থেকে ১০ জন পতিতা, খদ্দের ও ম্যানেজারসহ ২০ জনকে আটক করেছিল পুলিশ।এলাকাবাসী জানান, কয়েক বছর পূর্বে উপজেলার পিরোজপুরে তাজু মোল্লার মালিকানাধীন মোল্লা প্লাজায় মিম আবাসিক বোর্ডিং নামে একটি মিনি আবাসিক হোটেল গড়ে উঠে। সেখানে দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষের দিন-রাত আগমন হতে থাকে। অনৈতিক কার্যকলাপে স্থানীয় ছেলে-মেয়েরা ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন এলাকাবাসী। এ ব্যাপারে তারা স্থানীয় প্রশাসনের জোর হস্তক্ষেপ কামনা করেন এবং এই মিনি পতিতালয়টি একেবারে বন্ধ করে দেয়া হোক বলেও জানান।নাম প্রকাশ না করার শর্তে মিম আবাসিক বোর্ডিংয়ে কর্মরত এক ব্যক্তি জানান, আমি এখানে চাকরি করি। হোটেলের মালিক পক্ষ বিভিন্ন বয়সের নারীদের নিয়ে এসে পতিতাবৃত্তি চালিয়ে আসছেন। এই হোটেলে যে কোন সময়ে শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন ধরনের নারীর দেখা মিলবে বলে জানান তিনি।এমন অভিযোগের বিষয়ে মিম আবাসিক বোর্ডিংয়ের মালিক তাজু মোল্লা জানান, বোর্ডিংয়ে কোন অসামাজিক কার্যকলাপ হয় না। তবে অভিযোগের বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন।এছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা ঘুরে অনুসন্ধান করে জানা গেছে, বেশ কিছু অভিজাত এলাকায় বিভিন্ন বয়সী পতিতারা বাসা-বাড়ীতে বাসা ভাড়া নিয়ে পতিতাবৃত্তি করে থাকে। এর মধ্যে উপজেলার বিভিন্ন উল্লেখযোগ্য এলাকা যেমন- মেঘনা শিল্পনগরী এলাকা, কাঁচপুর, আমিনপুর পৌরসভা, মোগড়াপারা ইউনিয়নের বাড়ী মজলিশ, বাড়ী চিনিষসহ বিভিন্ন এলাকায় এসব অনৈতিক কার্যকলাপ অধিক হারে লক্ষ করা যাচ্ছে। এছাড়াও অন্যান্য ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায়ও এই অবৈধ দেহ ব্যবসা ও অনৈতিক কর্মকান্ডগুলো বিভিন্ন কীটপতঙ্গের ন্যায় ছড়িয়ে পড়েছে। পতিতারা বাসা ভাড়া নিয়ে এলাকার প্রভাবশালী ও সন্ত্রাসীদের ছত্রছায়ায় পতিতাবৃত্তি করে থাকে। এবিষয়ে এলাকার লোকজন প্রতিবাদ করার কোন সাহস পায় না। এতে করে সমাজের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে, বিপথগামী হচ্ছে সমাজের মা-বোন ও স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা।রাতের বেলা ভাসমান পতিতারা মেঘনা, কাঁচপুর ও মোগরাপাড়া বাসস্ট্যান্ডসহ আশেপাশের এলাকায় পতিতাবৃত্তি করে থাকে। তবে প্রশাসন থাকে নীরব ভুমিকায়। বাসা-বাড়ির পতিতারা পতিতাবৃত্তির পাশাপাশি মাদক বিক্রির সাথেও জড়িত বলে জানিয়েছে একাধীক সূত্র। আর এ সকল কাজে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করে থাকে বাড়ির মালিকসহ কেয়ারটেকার বা পাহাড়াদার এবং স্থানীয় এলাকার প্রভাবশালী ও সন্ত্রাসীরা।জানা গেছে, এসব পতিতারা স্থানীয় সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে বিভিন্ন পর্যায়ের খদ্দেরদের নিকট থেকে বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখিয়ে এবং মারধর করে জোরপূর্বক সমস্ত টাকা পয়সা ও মোবাইল ছিনিয়ে নেয়।তাই যত দ্রুত সম্ভব প্রশাসনের মাধ্যমে বাড়িওয়ালাদেরকে ডেকে সতর্ক করতে হবে, যাতে করে বাড়িওয়ালারা সতর্কতার মাধ্যমে বুঝে ও জেনে-শুনে তাদের বাড়ি ভাড়া দেন এবং বাড়িওয়ালারাও যাতে সর্বদা ভাড়াটিয়াদের দিকে লক্ষ্য রাখেন সে বিষয়ে তাদেরকে সচেতন করে তুলতে হবে।সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান মনির জানান, অসামাজিক কার্যকলাপ বন্ধে শীঘ্রই মিম আবাসিক বোর্ডিংসহ অন্যান্য জায়গায় ও এলাকায় অভিযান চালানো হবে।

Leave a Comment